ওসমানী উদ্যান – OSMANI UDYAN

ওসমানী উদ্যান পুরান ঢাকা ও মতিঝিল বাণিজ্য এলাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সুপরিচিত পাবলিক পার্ক। রাজধানী ঢাকার ঘিঞ্জি ও ব্যস্ত নগরায়নের মাঝে এটি এক টুকরো সবুজ ফুসফুস (Green Lung) হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যবাহী এই পার্কটি নগরবাসীর শারীরিক সুস্থতা, প্রাতঃভ্রমণ এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ইতিহাস ও নামকরণ

ওসমানী উদ্যানের ইতিহাসও ঢাকার ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পাকিস্তান আমলে এটি মূলত “সোহরাওয়ার্দী পার্ক'” বা স্থানীয়ভাবে খোলা ময়দান হিসেবে পরিচিত ছিল।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী (এম. এ. জি. ওসমানী)-র অবদান ও স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এই উদ্যানটির নামকরণ করা হয় ওসমানী উদ্যান”

অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ

  • অবস্থান: ঢাকার জিরো পয়েন্ট (নুর হোসেন চত্বর), গোলাপ শাহ মাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান কার্যালয় ঠিক মাঝামাঝি স্থানে উদ্যানটি অবস্থিত। এর একপাশে ফুলবাড়িয়া এবং অন্যপাশে তোপখানা রোড।
  • চারপাশের পরিবেশ: ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজপথ ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী ও চাকরিজীবী এর আশপাশ দিয়ে যাতায়াত করেন।

প্রধান আকর্ষণ ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

ওসমানী উদ্যান বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ।

  • প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরাজী: পার্কটিতে রয়েছে শতবর্ষী বট, পাকুড়, নাগলিঙ্গম, কদম, নিম, এবং হরেক রকমের বিরল প্রজাতির ফলজ ও ওষুধি গাছ। এই বিশাল গাছগুলোর কারণে উদ্যানে সবসময় একটি শীতল ও ছায়াঘেরা পরিবেশ বজায় থাকে।

  • লোকজ ঐতিহ্য ও তোপ (কামান): উদ্যানে দুটি ঐতিহাসিক কামান (যেমন: “বিবি মরিয়ম” কামানের ঐতিহাসিক স্মারক) এবং মোঘল আমলের ঢাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্যফলক সংরক্ষিত ছিল। যা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

  • বিশাল লেক ও জলধারা: উদ্যানের অভ্যন্তরে একটি বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক লেক রয়েছে। লেকের শান্ত পানি এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ পুরো উদ্যানকে এক নান্দনিক রূপ প্রদান করে।

  • হাঁটার পথ: পার্কের চারপাশ এবং লেকের পাড় ধরে সুসংগঠিত ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে ও বিকেলে অসংখ্য প্রাতঃভ্রমণকারী  এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখানে ব্যায়াম করতে আসেন।

আধুনিকায়ন ও বর্তমান রূপ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (DSCC) “জলসবুজে ঢাকা” প্রকল্পের অধীনে ওসমানী উদ্যানকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায়।

  • লেকের চারপাশ বাঁধাই ও সৌন্দর্যবর্ধন।

  • আধুনিক বসার বেঞ্চ, সুদৃশ্য লাইটিং এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ।

  • শিশুদের খেলাধুলার জন্য পৃথক জোন এবং কফি শপ/রিফ্রেশমেন্ট কর্নার সংযোজন।

  • খোলা চত্বর ও সবুজ ঘাসের মাঠ উন্মুক্তকরণ।

পরিদর্শনের সময়সূচী ও নিয়মাবলী

  • খোলা থাকার সময়: প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (সাধারণত সকাল ৬:০০ টা থেকে রাত ৯:০০ টা) উন্মুক্ত থাকে।

  • প্রবেশ ফি: উদ্যানে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে

কিভাবে যাবেন?

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে খুব সহজেই ওসমানী উদ্যানে পৌঁছানো যায়।

  • বাস/সিএনজি: যেকোনো জায়গা থেকে বাস বা সিএনজি যোগে সরাসরি জিরো পয়েন্ট (নুর হোসেন চত্বর), জিপিও, গোলাপ শাহ মাজার বা গুলিস্তান এলাকায় নামলে পার্কের প্রবেশ গেট দেখা যায়।

  • মেট্রোরেল (সবচেয়ে সুবিধাজনক): ঢাকা মেট্রোরেলে ভ্রমণ করে সরাসরি বাংলাদশ সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশন অথবা “মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে নেমে হেঁটে ৩-৫ মিনিটে ওসমানী উদ্যানে পৌঁছানো সম্ভব।

গুগল ম্যাপস