ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন – OSMANI MENORIAL AUDITORIUM
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ের একটি অন্যতম প্রধান এবং আধুনিক মিলনায়তন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্থাপত্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এই ঐতিহাসিক অডিটোরিয়ামটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা, জাতীয় পদক প্রদান অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ইতিহাস ও নামকরণ
মিলনায়তনটির ইতিহাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় প্রশাসনিক ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আশির দশকে রাষ্ট্রীয় সুসংগঠিত অডিটোরিয়ামের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ঢাকার তোপখানা রোড এলাকায় এই বিশাল মিলনায়তনটি গড়ে তোলা হয়।
পরবর্তীতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধায়ক, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী (এম. এ. জি. ওসমানী)-র স্মরণে ও প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই জাতীয় স্থাপনাটির নামকরণ করা হয় “ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন”। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি দেশের শীর্ষস্থানীয় এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ
-
অবস্থান: ঢাকার তোপখানা রোডে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ সচিবালয়ের ঠিক বিপরীতে এবং আব্দুল গণি রোডের প্রবেশপথ সংলগ্ন এলাকাতেই দাঁড়িয়ে আছে।
-
পারিপার্শ্বিক পরিবেশ: মিলনায়তনটি ঢাকার জিরো পয়েন্ট (নুর হোসেন চত্বর), সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক শাখা এবং প্রেসক্লাব এলাকার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। চারপাশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যালয় থাকায় এখানকার পরিবেশ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ও সুসংগঠিত থাকে।
স্থাপত্যশৈলী ও অভ্যন্তরীণ আধুনিক অবকাঠামো
সম্প্রতি আধুনিকায়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনকে বিশ্বমানের একটি স্টেট-অফ-দ্য-আর্ট অডিটোরিয়ামে রূপান্তর করা হয়েছে।
-
বিশাল আসন সংখ্যা: অডিটোরিয়ামটি প্রধানত দুইটি স্তরে (গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং গ্যালারি বা ব্যালকোনি) বিভক্ত। এখানে একসাথে প্রায় ১,০০০ জনেরও বেশি দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথি স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন।
-
অ্যাডভান্সড সাউন্ড ও লাইটিং সিস্টেম: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এতে অত্যাধুনিক সাউন্ড ড্যাম্পিং, আধুনিক ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম এবং ডিজিটাল স্টেজ লাইটিং সংযোজন করা হয়েছে।
-
অ্যাকেসিবিলিটি (বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধা): দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য র্যাম্প, বিশেষ লিফট, টয়লেট এবং হুইলচেয়ার চলাচলের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক পথ ডিজাইন করা হয়েছে।
-
ভিআইপি লাউঞ্জ ও গ্রিন রুম: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীবর্গের জন্য পৃথক ও সুরক্ষিত রাজকীয় ভিআইপি লাউঞ্জ, প্রেস কর্নার এবং পারফর্মারদের জন্য সুসজ্জিত গ্রিন রুম রয়েছে।
-
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত: পুরো কমপ্লেক্সটি আধুনিক প্রযুক্তির সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
নিরাপত্তা ও পরিদর্শনের নিয়মাবলী
যেহেতু এটি বাংলাদেশ সচিবালয়ের ঠিক সামনে অবস্থিত এবং এখানে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভিআইপি ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন, তাই এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া।
-
নিরাপত্তা বলয়: এসএসএফ (SSF), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (PGR), পুলিশ এবং বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে যেকোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সময় পুরো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।
-
প্রবেশাধিকার: সাধারণ দর্শনার্থীরা যেকোনো সময় অবাধে এতে প্রবেশ করতে পারেন না। সরকারি আমন্ত্রণপত্র, প্রেস কার্ড অথবা ইভেন্টভিত্তিক বিশেষ ডিজিটাল পাস প্রদর্শন সাপেক্ষেই কেবল নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে প্রবেশের অনুমতি মেলে।
কিভাবে যাবেন?
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে যোগাযোগ করা অত্যন্ত সুবিধাজনক
-
বাস/সিএনজি/কার: ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে বাস, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে সরাসরি জিরো পয়েন্ট (নুর হোসেন চত্বর), তোপখানা রোড বা জিপিও মোড়ে নামলেই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন স্পষ্ট দেখা যায়।
-
মেট্রোরেল (সবচেয়ে সহজ উপায়): ঢাকা মেট্রোরেলে ভ্রমণ করে সরাসরি “বাংলাদেশ সচিবালয় (Bangladsah Secretariat) মেট্রোরেল স্টেশন“ নামলে স্টেশন থেকে নেমেই মাত্র ১-২ মিনিট হেঁটে সরাসরি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের প্রধান ফটকে পৌঁছে যাওয়া যায়।

