ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন – DHAKA SOUTH CITY CORPORATION

ইতিহাস ও পরিচিতি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ অঞ্চলের নগর প্রশাসন, নাগরিক সেবা প্রদান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রধান দায়িত্বে থাকা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। ঢাকার প্রাচীন ঐতিহাসিক নগরী থেকে শুরু করে নতুনভাবে প্রসারিত বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই প্রশাসনিক ভবনটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র।

ঢাকার নগর প্রশাসনের ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৮৬৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে “ঢাকা পৌরসভা” হিসেবে এটি প্রথম যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে এটি “ঢাকা সিটি কর্পোরেশন”-এ রূপান্তরিত হয়।

নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রুত নগরায়নের ফলে নাগরিক সেবা দ্রুততর ও সুসংগঠিত করতে ২০১১ সালের২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (DNCC) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC)”। পুরান ঢাকা, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, শাহবাগ, পল্টন এবং নবসংযোজিত নতুন বেশ কিছু ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক সীমানা গঠিত।

প্রধান কার্যালয় (নগর ভবন)

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়টি “নগর ভবন” নামে পরিচিত।

  • অবস্থান: ঢাকার গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া সংলগ্ন ঐতিহাসিক তোপখানা রোডের শেষ প্রান্তে এটি অবস্থিত।

  • স্থাপত্যশৈলী: আধুনিক ও সুবিশাল এই বহুতল ভবনটিতে রয়েছে কর্পোরেশনের প্রশাসনিক শাখা, মেয়র কার্যালয়, কাউন্সিলরদের পরিষদ কক্ষ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর। ভবনটির সামনের খোলা প্রাঙ্গণ ও সুসংগঠিত চত্বর একে শহরের একটি অন্যতম চেনা পরিচিত আধুনিক প্রশাসনিক স্মারকে পরিণত করেছে।

প্রধান কার্যাবলী ও নাগরিক সেবা

  • নগর অবকাঠামো উন্নয়ন: রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, ফ্লাইওভার পরিচালনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ।

  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক এলাকা থেকে দৈনিক বর্জ্য অপসারণ এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা।

  • জনস্বাস্থ্য ও মশক নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত লার্ভিসাইড ছেটানো, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং মাতৃসদন হাসপাতাল ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা।

  • নাগরিক সনদ ও সেবা: জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় এবং চারিত্রিক ও ওয়ারিশ সনদ প্রদান।

  • নগর নান্দনিকতা ও পরিবেশ: ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর সংরক্ষণ (যেমন: পুরান ঢাকার ঐতিহ্য), পার্ক ও খেলার মাঠ সংস্কার এবং সড়কে লাইটিং ও সবুজায়ন।

গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও আওতাধীন এলাকা

ডিএসসিসি অঞ্চল মূলত ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলে (Zone) বিভক্ত, যার অধীনে ৭৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক অঞ্চলসমূহের পাশাপাশি ধানমন্ডি, জিগাতলা, আজিমপুর, শাহবাগ, মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর এবং নবসংযোজিত ডেমরা, মাতুয়াইল ও শ্যামপুর এলাকা এর অন্তর্ভুক্ত।

পরিদর্শনের নিয়ম ও সেবাগ্রহীতার তথ্য

  • পরিদর্শনের সময়: সরকারি কর্মদিবসে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত প্রশাসনিক দপ্তরসমূহ খোলা থাকে।
  • অনলাইন সেবা: ট্রেড লাইসেন্স আবেদন, হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন ই-সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে পাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকার যেকোনো এলাকা থেকে বাস, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং যোগে সরাসরি নয়াবাজার, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া বা বঙ্গবাজার মোড়ে নামলেই বিশালাকার নগর ভবন (ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রধান কার্যালয়) দেখা যাবে। এছাড়া মেট্রোরেলে এলে “সচিবালয়” বা “মতিঝিল” স্টেশনে নেমে রিকশা বা হেঁটে খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।